বিদেশে উচ্চশিক্ষায় স্কলারশিপ : আন্ডারগ্র্যাজুয়েট

উচ্চ মাধ্যমিক শেষে অনেকেরই স্বপ্ন থাকে বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যাওয়ার। দেশের বাইরে পড়শুনা অনেক খরচ সাপেক্ষ। তাই নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের বিদেশে লেখাপড়ার স্বপ্ন অধরাই থেকে যায়। তবে নিজেকে যথেষ্ট মেধাবী এবং যোগ্য প্রমাণ করতে পারলে সুযোগ রয়েছে স্কলারশিপ নিয়ে বিনামূল্যে বিদেশে পড়ালেখা করতে পারার।

প্রতি বছর  বাংলাদেশ থেকে বহু শিক্ষার্থী দেশের বাইরে যায় উচ্চশিক্ষার জন্য। বৃত্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডা, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া ইত্যাদি দেশগুলো। এসব দেশ প্রতিবছর বাইরের মেধাবী শিক্ষার্থীদের প্রচুর বৃত্তি প্রদান করে থাকে। 

বাংলাদেশে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী রয়েছে যারা স্কলারশিপ নিয়ে বিদেশে লেখাপড়া করতে ইচ্ছুক। কিন্তু সঠিক জ্ঞানের অভাবে আমাদের বেশিরভাগ শিক্ষার্থী জানে না কিভাবে স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে হয় এবং কি কি যোগ্যতা দরকার। আজকের আলোচনায় আমরা সেটিই জানার চেষ্টা করব।

স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে বৃত্তির আবেদনের জন্য কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। আজকে আমরা জানবো স্নাতক পর্যায়ে স্কলারশিপে আবেদন করার জন্য কি কি যোগ্যতা প্রয়োজন।

১। ভাষাগত দক্ষতা : (ক) ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা ও (খ) কাঙ্ক্ষিত দেশের ভাষায় দক্ষতা

২। রিকমেন্ডেশন লেটার

৩। মোটিভেশন লেটার

৪। সামাজিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ

ভাষাগত দক্ষতা

বৃত্তি পাওয়ার জন্য ভাষাগত দক্ষতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। স্নাতক পর্যায়ে বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয় IELTS-এর স্কোর বিবেচনা করে। একেকটা দেশের একেকটা বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃত্তির আবেদনের জন্য ভিন্ন ভিন্ন স্কোর চাইতে পারে। সেটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে দেখে নিতে হবে। সাধারণত কমপক্ষে ৭.০-৭.৫ ব্যান্ড স্কোর নিয়ে আবেদন করা যেতে পারে। 

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মত দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্নাতকের ক্ষেত্রে TOEFL, SAT -এর স্কোরকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। তবে ফ্রান্স, জার্মানির মতো দেশগুলোতে ইংরেজির পাশাপাশি ওই দেশীয় ভাষায় পারদর্শিতা দেখাতে হয়।

আবার কিছু কিছু দেশে বৃত্তির জন্য ইংরেজি ভাষার যোগ্যতা দেখানো লাগে না। যেমন কোরিয়া, জাপান, চীন, রাশিয়া, মালয়েশিয়া ইত্যাদি দেশে ওই দেশীয় ভাষা শিখতে হয়। যদিও বৃত্তি পেয়ে গেলে ভাষা শিক্ষার খরচ ওই দেশের সরকারই বহন করে।

রিকমেন্ডেশন লেটার/ সুপারিশ পত্র

রিকমেন্ডেশন লেটার হলো কেউ আপনার কোনো কিছুর জন্য সুপারিশ করছে তা বুঝায়। বৃত্তি কিংবা ভর্তি যোগ্যতা বিবেচনায় সুপারিশ পত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিশ্বের অসংখ্য বৃত্তি প্রত্যাশী শিক্ষার্থীদের খুব ভালো একাডেমিক ফলাফল থাকতে পারে। কিন্তু এতো সংখ্যক আসন থাকে না। তাই বৃত্তি বিবেচনায় সুপারিশ পত্রকে গুরুত্বের সাথে দেখা হয়। মনে রাখবেন একাডেমিক ফলাফল ভালো হলেও যদি ভালো সুপারিশ না থাকে তবে বৃত্তি পাওয়া মুশকিল।  তাই এক্ষেত্রে খুবই সচেতন হওয়া দরকার। 

সাধারণত ৩টি সুপারিশ পত্র চাওয়া হয়। আপনার কলেজের শিক্ষক বা পূর্বে কোনো মেন্টরের আওতায় কোনো প্রজেক্টে কাজ করে থাকলে তারা আপনাকে সুপারিশ পত্র করে দিতে পারে। খেয়াল রাখবেন যেন এগুলো ইউনিক হয়। কারণ কোনো নমুনা হুবহু নকল করলে কর্তৃপক্ষ তা বুঝতে পারবে এবং সেক্ষেত্রে আপনার বৃত্তি বাতিল হতে পারে।

মোটিভেশন লেটার

এটাও একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়। প্রায় সকল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের লক্ষ্য কি সেটা জানতে চায়। সেক্ষেত্রে আবেদনকারী তার জীবনের লক্ষ্য কি, কেন তার বৃত্তি প্রয়োজন, পড়াশুনা করে কিভাবে সেটা কাজে লাগবে তা সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলতে হবে। মোটিভেশন লেটার অবশ্যই ইউনিক হতে হবে এবং লেখার গঠন কিছুটা শৈল্পিক ধরনের হতে হবে। তাহলে বৃত্তি পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাবে। এজন্য আগে থেকেই নিজে নিজের মোটিভেশন লেটার লেখার অভ্যেস গড়ে তুলতে হবে। এটি অবশ্যই কোর্স রিলেটেড হতে হবে। অপ্রাসঙ্গিক কিছু না লেখা ভালো।

সামাজিক কার্যক্রম

বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমে সক্রিয় ভুমিকা থাকলে স্কলারশিপ পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এজন্য কলেজ থেকেই বিভিন্ন ফেস্টিভ্যাল, অলিম্পিয়াড, ক্লাব কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে হবে। গণিত অলিম্পিয়াড, পদার্থবিজ্ঞান অলিম্পিয়াড, স্কাউটিং করার অভিজ্ঞতা, সেচ্ছাসেবামূলক কাজের সনদ ইত্যাদি আপনাকে অনেক এগিয়ে রাখবে। 

পরবর্তিতে আমরা উপরোক্ত চারটি যোগ্যতার বিস্তারিত আলোচনা করবো। সে পর্যন্ত  SWOT অ্যানালাইসিস করে ব্যক্তিগত উন্নয়ন করতে থাকুন আমার এই লেখাটি পড়ে 😉 

Rating: 5 out of 5.
ব্যক্তিগত ‘SWOT’ অ্যানালাইস

Subscribe For Latest Updates!

Get higher-study abroad, visa & migration-related latest updates from eGal!

Invalid email address
We promise not to spam you. You can unsubscribe at any time.

Pronab

জীবন কেবল প্রতিযোগিতার জন্য না মানব জীবন বৃক্ষের পরিপক্ব ফল স্বরূপ যা মহান মানবতার জন্য উৎসর্গিত।

6 thoughts on “বিদেশে উচ্চশিক্ষায় স্কলারশিপ : আন্ডারগ্র্যাজুয়েট

  • 30/04/2021 at 1:36 AM
    Permalink

    vaiya ফিনটিবা একাউন্ট করা ডিপোজিট করা নিয়ে সুন্দর করে একটা ভিডিও বানান,,,ইউনি এ্যাসিস্ট দিয়ে আবেদন করার যে ভিডিওটা বানাইছেন সেটা ভালো ছিল।

    Reply
  • 01/05/2021 at 12:24 PM
    Permalink

    I will want to go Germany for study.
    My have completed
    Ssc from Commerce 3.19 out of 5.

    Diploma electrical 3.31 out of 4.

    BSC in electrical and electronics 3.10 out of 4.

    Can i apply?
    IELTS socre?

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *