বিমান ভ্রমণের সময় কোন জিনিস হাতে নেওয়া যায়, কোনটা চেক-ইন লাগেজে রাখতে হয়?

বিমান ভ্রমণের আগে সবচেয়ে বেশি বিভ্রাট হয় ব্যাগে কী রাখবো আর কী রাখবো না তা নিয়ে। সিকিউরিটি চেক-ইনের নিয়মগুলো ঠিকমতো না জানলে এয়ারপোর্টে পৌঁছেই ঝামেলায় পড়তে হতে পারে। কখনও আইটেম ফেলে দিতে হতে পারে আবার কখনও বাড়তি সময়ও নষ্ট হতে পারে।

চলুন, বিষয়টা পরিষ্কার করে দেখা যাক, হ্যান্ড লাগেজে (হাতে নেওয়া ব্যাগে) কী নেওয়া যায়, কী নেওয়া যায় না আর কোন জিনিস কেবল চেক-ইন লাগেজে রাখা যাবে।

হাতে নেওয়া ব্যাগে (Hand Luggage / Cabin Bag) কী নেওয়া যায়?

আপনি হয়তো এরই মধ্যে জানেন যে হাতে নেওয়া বেশকিছু জিনিস নেওয়া যায়। এর মধ্যে ব্যক্তিগত পরিচর্যার জিনিস থেকে শুরু করে নানান কিছুই হতে পারে। চলুন দেখে নিই সেগুলো কী কী…

১. ব্যক্তিগত পরিচর্যা জিনিস

ব্যক্তিগত পরিচর্যা জিনিসের ক্ষেত্রে এসব জিনিস সাধারণত নিরাপদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

  • টুথব্রাশ
  • ডিওডোরেন্ট স্টিক
  • নেলকাটার
  • ছোট কাঁচি (ব্লেড ৬ সেমির কম)
  • টুইজার
  • শেভিং রেজর (কার্টিজ টাইপ)
  • কনট্যাক্ট লেন্স, চোখের ড্রপ

সতর্কতা

স্প্রে বা লিকুইড হলে সেগুলোকে অবশ্যই ১ লিটারের zip-lock ব্যাগে রাখতে হবে।

২. লিক্যুইড, জেল, ক্রিম (Liquids Rules)

এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বেশকিছু নিয়ম রয়েছে। চলুন দেখে নিই সেগুলো…

  1. সমস্ত লিকুইড/জেল/ক্রিম ১০০ মিলিলিটারের কম হতে হবে
  2. সবগুলো একটি ১-লিটারের স্বচ্ছ zip-lock ব্যাগে রাখতে হবে
  3. প্রতি যাত্রীর জন্য একটি ব্যাগ
  4. এর বাইরে কিছু হলে ফেলে দিতে হবে

উদাহরণ

নেওয়া যাবেনেওয়া যাবে না
১০০ml পারফিউম২০০ml পারফিউম
৫০ml হেয়ার জেলবড় লোশন বোতল
৯০ml সানস্ক্রিনস্প্রে ১৫০ml

৩. ইলেকট্রনিক্স

  • ল্যাপটপ
  • মোবাইল
  • ক্যামেরা
  • পাওয়ার ব্যাংক (সর্বোচ্চ ২০,০০০–২৫,০০০ mAh)
  • ট্যাব
  • চার্জার, কেবল

গুরুত্বপূর্ণ
পাওয়ার ব্যাংক চেক-ইন ব্যাগে রাখা নিষিদ্ধ । এটি সবসময় হাতে রাখতে হবে।

৪. খাবার-দাবার

  • শুকনো খাবার
  • স্যান্ডউইচ
  • চকলেট
  • প্যাকেট বিস্কুট ইত্যাদি

স্যুপ, তরল খাবার, দই, সস এগুলো লিক্যুইড রুল অনুসারে যাবে।

৫. পোশাক ও আনুষঙ্গিক জিনিস

  • জ্যাকেট
  • স্কার্ফ
  • টুপি
  • জুতা
  • বেল্ট

এসব নিয়ে কোনো সমস্যা নেই।

হাতে নেওয়া ব্যাগে (Hand Luggage) কী নেওয়া যাবে না?

এটা এমন একটা জায়গা যেখানে বেশিরভাগ যাত্রীই ভুল করেন। বাইরে থেকে জিনিসটা নিরীহ মনে হলেও এয়ারপোর্টে গিয়ে ঝামেলা বাধে। তাই হাতে নেওয়া ব্যাগে কী নেওয়া একদমই যাবে না এটা আগে থেকেই পরিষ্কার জানা দরকার। এতে সময় বাঁচবে, মানসিক চাপ কমবে আর সিকিউরিটিতে গিয়ে কিছু ফেলে দিতে হবে না।

বিমান ভ্রমণের সময় কোন জিনিস হাতে নেওয়া যায়, কোনটা চেক-ইন লাগেজে রাখতে হয়

এখন চলুন দেখি কোন জিনিসগুলো নিশ্চিতভাবে নিষিদ্ধ।

১. ধারালো ও ঝুঁকিপূর্ণ জিনিস

  • ছুরি
  • সুইস আর্মি নাইফ
  • ব্লেড
  • লেটার ওপেনার
  • বড় কাঁচি
  • স্ক্রু ড্রাইভার
  • টুলবক্স আইটেম

সবই সিকিউরিটিতে বাজেয়াপ্ত হবে।

২. তরল পদার্থ সীমা অতিক্রম করলে

  • ১০০ml-এর বেশি পারফিউম
  • বড় স্প্রে
  • বড় লোশন
  • স্যানিটাইজার > ১০০ml

এসব যদি আপনার লিস্টে থাকে তাহলে ফেলে যেতে হবে।

৩. খেলাধুলার সরঞ্জাম

  • ক্রিকেট ব্যাট
  • বেসবল ব্যাট
  • গলফ ক্লাব
  • হকি স্টিক

ভালোভাবে মনে রাখবেন, এসব জিনিস হাতে নেওয়া একেবারেই নিষিদ্ধ।

৪. আত্মরক্ষা সরঞ্জাম

  • পেপার স্প্রে
  • শক গানের মতো ডিভাইস
  • ধারালো মেটাল ফাইল

এসবও পুরোপুরিভাবে নিষিদ্ধ হ্যান্ড লাগেজে নেওয়া।

চেক-ইন লাগেজে (Checked Baggage) কী রাখা যায়?

যেসব জিনিস হাতে নেওয়া নিষিদ্ধ, তার অধিকাংশ চেক-ইনে রাখা যায়।

১. ধারালো জিনিস

  • ছুরি
  • পকেট নাইফ
  • বড় কাঁচি
  • স্ক্রু ড্রাইভার
  • টুল সেট

২. বড় তরল ও স্প্রে

  • বড় পারফিউম
  • বড় সানস্ক্রিন
  • বড় লোশন
  • কীটনাশক স্প্রে

৩. খাবার-দাবার (তরল/পেস্টি জাতীয়)

  • সস
  • আচার
  • মধু
  • বড় জুস বোতল

৪. পোশাক ও ভারী আইটেম

  • শীতের ভারী জ্যাকেট
  • বুট
  • ট্রাভেল আইরন (কিছু দেশে অনুমোদিত)

চেক-ইন লাগেজে কী রাখা যাবে না?

এগুলো সবসময় নিষিদ্ধ।

  • পাওয়ার ব্যাংক
  • লিথিয়াম ব্যাটারি
  • ই-সিগারেট
  • বিস্ফোরক/ফায়ারওয়ার্ক
  • পেট্রোল/কেমিক্যাল
  • গ্যাস সিলিন্ডার/বিউটেন

বিমান ভ্রমণের লাগেজে কোন জিনিস কোথায় যাবে? (দ্রুত সারসংক্ষেপ)

আইটেমহ্যান্ড লাগেজচেক-ইন লাগেজ
ছোট কাঁচি (৬cm)
নেল কাটার
ছুরি
পাওয়ার ব্যাংক
১০০ml লিকুইড
২০০ml লিকুইড
টুল সেট
ল্যাপটপ
স্প্রে (বড়)
খাবার (শুকনো)

শেষ কথা

ভ্রমণ যতই সহজ হোক, ব্যাগ প্যাক করার সময় নিয়ম না জানলে ঝামেলা এড়ানো যায় না। কী হাতে নিতে পারবেন আর কী চেক-ইনে দিতে হবে এসব আগে থেকেই পরিষ্কার থাকলে সময় বাঁচে, ঝামেলা কমে, ভ্রমণ অভিজ্ঞতাও অনেক আরামদায়ক হয়।

আশা করি এই কন্টেন্টটা আপনাদের কাজে লাগবে। যদি দরকারি মনে হয় তাহলে নিজের প্রোফাইলে কিংবা বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে শেয়ার করে রাখুন, পরবর্তীতে হয়তো কাজে লাগবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *